শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
অভিনয়ের একটি কৌশল হলো মেথড অ্যাক্টিং, যেখানে অভিনয়শিল্পী বাস্তব জীবনে তাঁর চরিত্রের মতো জীবন-যাপন করেন এবং ঠিক সেই ধরনের আচার-আচরণে অভ্যস্ত হন- যেন তিনি তাঁর চরিত্রে অভিনয়ের সময় জীবনধর্মী অভিনয় ফুটিয়ে তোলেন। একে বলা হয় পুরোটা চরিত্র হয়ে যাওয়া, কারণ তখন তাঁরা আর নিজেরা অভিনয় করেন না, বরং তাঁরা নিজেরাই ওই চরিত্রটি হয়ে যান এবং চরিত্রের মতোই কর্মকাণ্ড করতে থাকেন। হলিউডে এই অ্যাক্টিংয়ের সূত্রপাত হয় ১৯৫০ সালের পরে, কিন্তু এই অ্যাক্টিংয়ের জনক কিন্তু দীলিপ কুমার। অনেকেই জানে না।
১৯৪৩ সালে তিনি অভিনয় করেন জোয়ার ভাটা সিনেমায়। যেটা মুক্তিও পায় ১৯৪৪ সালে। শুরু থেকেই তিনি মেথড অ্যাক্টিং করেন। তাহলে মেথড অ্যাক্টিংয়ের জনক কে হলো? দীলিপ কুমার শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশ নয়; গোটা বিশ্বের এমন একজন অভিনেতা যার কোনো বিকল্প নেই, হবে না। দীলিপ কুমার একজন আন প্যারালাল অভিনেতা। যদি জিজ্ঞেস করেন দীলিপ কুমারের অভিনয় ক্ষমতা সম্পর্কে, যদি বিশ্লেষণ করতে বলা হয় তাহলে বলবো সেটা আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ দীলিপ কুমারের অভিনয় যাচাই করার ক্ষমতা আমার নেই।
দীলিপ কুমার মারা গেছেন। ফেসবুক ইউটিউবে দেখছি তার বাড়িতে উপচে পড়ছে সাংবাদিকরা। অভিনেতারাও ভেতরে যেতে পারছেন না। এখন তাকে নিয়ে নানা কথা হবে। মানুষ মারা গেলে সবাই স্মৃতিচারণ করতে বলে। কিন্তু স্মৃতিগুলো তো আনন্দের। এখন কি সে আনন্দময় মুহূর্তগুলো শেয়ার করার মতো মানসিকভাবে ঠিক থাকতে হবে তো।
আজ সাংবাদিকরা আমাকে ফোন করছেন, জানতে চাইছেন তার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো কেমন ছিল। আমি মাত্র ৩ দিন তাকে খুব থেকে দেখেছি। আর কাছে থেকে দেখেছি বলে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি তার জীবন ও অভিনয় জীবন।
শেরাটন হোটেলের ওই তিনদিন মনে রাখার মতো। ভাইদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে শপিংয়ে পাঠিয়ে দিতেন। এরপর তারা গেছে কি না সেটাও নিশ্চিত হতে আমাকে পাঠাতেন দেখে আসতো। আমি যখন বলতাম তারা চলে গেছে। এরপর বলতেন নিচ থেকে চারটা ডিমের ওমলেট নিয়ে এসো, যাও। আমি নিয়ে আসতাম। সেসব খেয়ে ফেলতেন এক বসাতেই।
একইভাবে রাতের খাবার টেবিলে দীলিপ কুমার ভাইদের রাখতেন না। ঠেলে অন্য টেবিলে পাঠাতেন। খাসির মাংস আলাদাভাবে খাওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করতেন। খাওয়ার সময় আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতাম। বেশ ভোজনরসিক ছিলেন।
খুব কাছ থেকে বাস্তব জীবনের দীলিপ কুমারকে দেখে অবাক হয়েছি। আসলে ওই কদিন অনেক স্মৃতি জমে গিয়েছিল। এখন স্মৃতিচারণ করার সময় নয়। তারপরেও কিছু কথা তো মনে পড়ে যায়ই। এখন আমি শুধু একটা কথা কথাই বলতে চাই, আল্লাহর কাছে তার মাগফেরাত কামনা করতে হবে। (অনুলিখন: মাহতাব হোসেন)